টমটমচালক মোবারক হোসেনের বাড়িটা মাটির সঙ্গে অনেকটা মিশে গেছে। টিনের চালের নিচে আসবাব, রান্নার সামগ্রী চাপা পড়েছে। সেখান থেকে কিছু জিনিসপত্র উদ্ধারের পাশাপাশি আবার ঘরটাকে মেরামতের চেষ্টা করছেন তিনি।
ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার দরবারপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ বড়ইয়ায় এমন চিত্র দেখা গেছে। বেড়া ও টিনের চালার মূল ঘরটিকে কোনোরকমে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছেন তিনি।
মোবারকের মতো আরও অনেক দুর্গত সব হারানোর দুঃখ ভুলে নতুন করে বাঁচার লড়াইয়ে নেমেছেন।
কেউ মাথা গোঁজার জায়গাটা বসবাস উপযোগী করছিলেন, কেউ ঘরে ঢোকার রাস্তা মেরামতে ব্যস্ত, আবার কেউ ডুবে যাওয়া আসবাব রক্ষণাবেক্ষণে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আবার কাউকে কাউকে মরে যাওয়া কৃষিজমিতে নতুন করে আমান চারা রোপণে ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে।
গত আগস্ট থেকে ফেনীতে ভয়াবহ এ বন্যা দেখা দেয়। এখানকার বয়োবৃদ্ধরা এমন ভয়াবহ বন্যা আর কখনো দেখননি। আকস্মিক বন্যার শুরুতে প্রশাসন ও স্থানীয় ব্যক্তিদের মধ্যে কিছুটা হতচকিত ভাব দেখা গেলেও পরে তা সামলে ওঠেন তাঁরা। উদ্ধারকাজ ও ত্রাণ বিতরণে সরকারি–বেসরকারি লোকজন এবং বিভিন্ন বাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়ে।
২৫ আগস্ট থেকে বন্যার পানি নামতে শুরু করে। তবে পানি নামার চার–পাঁচ দিনেও ক্ষয়ক্ষতির কোনো পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি হয়নি। কী পরিমাণ বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে কিংবা ফসলের ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা যায়নি এখনো। ৫ আগস্টের ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিদের অনুপস্থিতি, বিভিন্ন সরকারি দপ্তর পানিতে তলিয়ে যাওয়াসহ নানা কারণে পূর্ণাঙ্গ চিত্র পেতে বিলম্ব হচ্ছে।
বন্যাসংক্রান্ত ক্ষতি নিরূপণের সঙ্গে জড়িত জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ফাহমিদা হক বলেন, বিভিন্ন দপ্তর তালিকা তৈরি করছে। বিভাগ অনুযায়ী ক্ষতি নিরূপণ চলছে। ঘরবাড়ির ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনও শিগগিরই পাওয়া যাবে। তবে ত্রাণ বিতরণ চলছে। গৃহ পুনর্নির্মাণসহ বিভিন্ন বিষয়ে তালিকা হাতে আসার পর সহযোগিতা করা হবে। সাধারণ বাংলা সমাচার

0 Comments